প্রশ্ন: আমার ছেলের জন্মের পর আকিকা দেওয়া হয় পুণ্য নামে, পরে জানতে পারি পুণ্য হিন্দুদের নাম, তখন পাল্টে অন্য নাম রাখা হয়? প্রশ্ন হলো, এখন কি আবার আকিকা দিতে হবে?
উত্তর: কারও নামের অর্থের মধ্যে যদি এমন কোনো বিষয় থাকে যা ইসলামি আকিদা বা বিশ্বাসের পরিপন্থী, তাহলে সেই নাম পরিবর্তন করা আবশ্যক। প্রিয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একাধিক ব্যক্তির নাম পরিবর্তন করে দিয়েছিলেন, যাদের নামের অর্থ ইসলামি বিশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না কিংবা শিরকপূর্ণ ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন ছিল।
তবে এর বাইরে যদি কারও এমন কোনো নাম থাকে যা আরবি নয়, বাংলা বা অন্য কোনো ভাষার শব্দ, কিন্তু সেই নামের অর্থের মধ্যে খারাপ কিছু নেই এবং তা ইসলামের ভাবধারা, মূল্যবোধ বা বিশ্বাসের বিরোধী নয়, তবে সে নাম রাখায় কোনো অসুবিধা নেই। এমন নাম পরিবর্তন করাও আবশ্যক নয়।
যেমন পুণ্য নামটি হয়ত হিন্দু ধর্মের অনেকে রাখেন, কিন্তু নামটির অর্থের মধ্যে খারাপ কিছু নেই, তাই কোনো শিশুর নাম পুণ্য রাখলে এটি পরিবর্তন করা জরুরি নয়।
পরের প্রশ্ন হলো, শিশুর নাম পরিবর্তন করলে পুনরায় আকিকা দিতে হবে কি না? এই প্রশ্নের উত্তর হলো, না, যে কোনো কারণেই হোক, নাম পরিবর্তন করলে নতুন আকিকা দিতে হবে না। আকিকার সঙ্গে নাম রাখার বা পরিবর্তনের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। শিশুর জন্মের সপ্তম দিনের একটি সুন্নত আকিকা, আরেকটি সুন্নত নাম রাখা। যদিও নাম সপ্তম দিনের আগে রাখা যায়, পরেও রাখা যায়। আকিকাও সপ্তম দিন কোনো কারণে করতে না পারলে চৌদ্দতম দিন, একুশতম দিন বা পরে যে কোনো সময় করা যায়।
আমাদের দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে কারও নাম পরিবর্তন করতে হলে আত্মীয়স্বজন বা আশপাশের মানুষকে দাওয়াত করে খাওয়ানোর একটি প্রথা প্রচলিত আছে। এটি নিছকই আমাদের একটি সামাজিক কালচার বা সংস্কৃতি। এটি হয়তো এই উদ্দেশ্যে করা হয়, যেন নতুন নামটির প্রচার ভালোভাবে হয় এবং মানুষ তা সহজে জানতে পারে। কেউ চাইলে এই প্রথা পালন করতে পারে, এটা নিষিদ্ধ নয়। কিন্তু ধর্মীয় বিধান হিসেবে নাম পরিবর্তনের জন্য নতুন করে আকিকা করার কোনো প্রয়োজন নেই।