Thursday 5th of November 2026
|
|
|
Headlines : * হামের টিকা ক্রয়ে বিলম্ব, অনিয়ম ও ব্যর্থতার কারণ জানাতে কমিশন গঠন   * US `engages` with PNG probe into suspected artillery shell   * Gazipur industrial belt stabilizes as workers resume duties   * সৌদি আরবের সঙ্গে সিরিয়ার প্রতিরক্ষা চুক্তি সই   * মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া কর্মী পাঠানো যাবে না যে ১২ দেশে   * সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল শুরু, প্রথম দিন গেলেন ৮৩৬ পর্যটক   * শান্ত গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে কাজে ফিরেছেন শ্রমিকরা   * Political conspiracy behind violence in garment sector: Home Minister   * ট্রাম্পের ক্ষমতার মসনদে বড় ধাক্কা, কোন পথে যুক্তরাষ্ট্র   * Gazipur secured by 25 platoons of BGB  

   বাংলা সংবাদ
ট্রাম্পের ক্ষমতার মসনদে বড় ধাক্কা, কোন পথে যুক্তরাষ্ট্র
  Date : 04-11-2026

ওয়াশিংটনের ক্ষমতার সমীকরণে বড় পরিবর্তন এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি এখন কঠিন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে। ডেমোক্র্যাটদের এই জয় শুধু আইনসভার আসনবিন্যাস বদলায়নি, সংকুচিত করেছে ট্রাম্পের শাসন পরিচালনার পরিসরও। মেয়াদের বাকি দুই বছরে আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন থেকে শুরু করে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাকে এখন বিরোধী দলের সঙ্গে সমঝোতার কঠিন পরীক্ষায় পড়তে হবে।

তবে এই ফলাফলের অর্থ ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট ক্ষমতা শেষ হয়ে যাওয়া নয়। বরং হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ দুই দলের হাতে চলে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হচ্ছে বিভক্ত শাসনের নতুন অধ্যায়। আইন প্রণয়ন থেকে বাজেট, প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের জবাবদিহি থেকে গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই বাড়বে রাজনৈতিক দর-কষাকষি। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্তের সুযোগও পাবে ডেমোক্র্যাটরা।

নির্বাচনের রায়ে কী বার্তা দিলেন ভোটাররা

মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সাধারণত ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের প্রথম দুই বছরের শাসনের মূল্যায়ন হিসেবে দেখা হয়। এবারের নির্বাচনও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পকে দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরানো ভোটারদের একটি বড় অংশ এবার রিপাবলিকানদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। বিশেষ করে যেসব অঙ্গরাজ্য দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, সেখানেও ডেমোক্র্যাটদের জয় নির্বাচনের ফলকে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেক্সাসে কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো ডেমোক্র্যাটরা সিনেট আসন জিতেছে। কানসাসেও প্রায় এক শতাব্দী পর ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন। দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়া রিপাবলিকান প্রার্থীও জয়ী হতে পারেননি। প্রতিনিধি পরিষদেও দুই ডজনের বেশি রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত আসন ডেমোক্র্যাটদের দখলে গেছে।

ভোটারদের এই অবস্থানের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করেছে। জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, ট্রাম্পের শুল্কনীতি, ইরান যুদ্ধ এবং প্রশাসনের কর্মকাণ্ড নিয়ে অসন্তোষ নির্বাচনি প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ে উদ্বেগ সাধারণ ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে বিভিন্ন জরিপ ও বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে প্রকাশিত নির্বাচনি জরিপ অনুযায়ী, দেশজুড়ে প্রায় অর্ধেক ভোটার মধ্যবর্তী নির্বাচনকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি অনাস্থা জানানোর সুযোগ হিসেবে দেখেছেন। জরিপে অংশ নেওয়া ৭০ শতাংশ ভোটার মনে করেন, প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ওপর আরও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। নির্বাচনের পর ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন, ইরান যুদ্ধ রিপাবলিকানদের পরাজয়ে ভূমিকা রেখেছে। তবে যুদ্ধের সিদ্ধান্তের পক্ষে নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি তিনি।

কী হারালেন ট্রাম্প!

যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা কংগ্রেসের দুটি কক্ষ—প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট। প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সব কটিতে এবং সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে এবার ৩৫টি আসনে নির্বাচন হয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে অন্তত ২১৮টি আসন প্রয়োজন। সিনেটে সাধারণত ৫১টি আসন সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য যথেষ্ট, যদিও সমান আসন হলে ভাইস প্রেসিডেন্টের ভোটে সিদ্ধান্ত হতে পারে।

কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানো ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা হবে আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে। তার প্রশাসন অভিবাসন, কর, সরকারি ব্যয়, বাণিজ্য ও পররাষ্ট্রনীতিতে যেসব পরিবর্তন আনতে চায়, সেগুলো বাস্তবায়নে এখন ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতা করতে হবে। বিরোধী দল সমর্থন না দিলে গুরুত্বপূর্ণ অনেক উদ্যোগ আটকে যেতে পারে।

বিশেষ করে বাজেট ও সরকারি ব্যয় নিয়ে দুই দলের মধ্যে বিরোধ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে সরকারের অর্থায়ন ও ঋণসীমা বাড়ানোর মতো বিষয়গুলো কংগ্রেসের অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল। এসব প্রশ্নে সমঝোতা না হলে সরকারি কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে। ২০২৭ সালে বাজেট ও ঋণসীমা নিয়ে বড় ধরনের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আশঙ্কার কথাও নির্বাচনের আগে রয়টার্সের বিশ্লেষণে উঠে এসেছিল।

তবে কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেই ডেমোক্র্যাটরা নিজেদের সব প্রস্তাব আইনে পরিণত করতে পারবে, এমন নয়। কোনো বিল প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে পাস হলেও প্রেসিডেন্ট তাতে ভেটো দিতে পারেন। সেই ভেটো অগ্রাহ্য করে বিল পাস করতে হলে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। ফলে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ট্রাম্পের আইন প্রণয়নের পথ কঠিন করবে, কিন্তু তার হাতে থাকা নির্বাহী ক্ষমতা কেড়ে নেবে না।

তদন্তের মুখে পড়তে পারে ট্রাম্প প্রশাসন

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারির সুযোগ। প্রতিনিধি পরিষদের বিভিন্ন কমিটির নেতৃত্ব এখন ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাবে। এসব কমিটির মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিনির্ধারণ, সরকারি অর্থের ব্যবহার, অভিবাসন কার্যক্রম, শুল্কনীতি এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত শুরু করা সম্ভব হবে।

কংগ্রেসের কমিটিগুলো তদন্তের প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ব্যক্তিদের তলব করতে পারে, নথিপত্র চাইতে পারে এবং শুনানির আয়োজন করতে পারে। ফলে হোয়াইট হাউসের ওপর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ বাড়বে। ট্রাম্পের পরিবারের ব্যবসায়িক স্বার্থ ও প্রশাসনের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়েও তদন্তের দাবি উঠতে পারে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

এছাড়া প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব উত্থাপনের পথও খোলা থাকবে। তবে অভিশংসন আর প্রেসিডেন্টকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া এক বিষয় নয়। প্রতিনিধি পরিষদে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় অভিশংসন প্রস্তাব পাস হতে পারে। এরপর সিনেটে বিচার অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসিডেন্টকে দোষী সাব্যস্ত করে পদচ্যুত করতে সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে সেই সমর্থন পাওয়া ডেমোক্র্যাটদের জন্য কঠিন হবে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টশাসিত ব্যবস্থায় সংসদীয় পদ্ধতির মতো আস্থা ভোটে হেরে সরকার বা প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা হারানোর নিয়ম নেই। তাই কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেই ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট পদ ঝুঁকিতে পড়বে না। অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু হলেও পদচ্যুতির জন্য আলাদা সাংবিধানিক শর্ত পূরণ করতে হবে।

নিয়োগ ও বিচার বিভাগে বাড়বে বাধা

সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ার ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগপ্রক্রিয়াও বাধার মুখে পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের মন্ত্রিসভার সদস্য, রাষ্ট্রদূত এবং ফেডারেল বিচারকদের নিয়োগে সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন। ফলে নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন বা অন্তত বিরোধিতা এড়িয়ে চলার কৌশল নিতে হবে হোয়াইট হাউসকে।

বিশেষ করে সুপ্রিম কোর্টে কোনো বিচারপতির পদ শূন্য হলে ট্রাম্পের মনোনীত ব্যক্তির নিয়োগ আটকে দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে ডেমোক্র্যাটদের হাতে। এর ফলে বিচার বিভাগে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিস্তারের যে সুযোগ প্রেসিডেন্টের সামনে থাকে, সেটিও সীমিত হতে পারে। নির্বাচনের আগে রয়টার্সের বিশ্লেষণেও সিনেটের নিয়ন্ত্রণকে ট্রাম্পের নিয়োগপ্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।

ট্রাম্পের ভেটোই হবে বড় অস্ত্র

কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারালেও ট্রাম্পের হাতে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম প্রেসিডেন্টের ভেটো। ডেমোক্র্যাটরা কোনো বিল পাস করে হোয়াইট হাউসে পাঠালে ট্রাম্প তাতে ভেটো দিতে পারবেন। সেই ভেটো অগ্রাহ্য করতে হলে দুই কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন দরকার হবে—যা বর্তমান আসনবিন্যাসে ডেমোক্র্যাটদের জন্য সহজ নয়।

নির্বাচনের ফল স্পষ্ট হওয়ার পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভেটো’ লেখা একটি টুপির ছবি প্রকাশ করেন। এর মাধ্যমে তিনি বিরোধী দলের উদ্যোগের বিরুদ্ধে নিজের সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়েছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহের কথাও বলেছেন। অর্থাৎ একদিকে সহযোগিতার বার্তা, অন্যদিকে ভেটো প্রয়োগের সতর্কতা—দুই ধরনের অবস্থানই সামনে রেখেছেন প্রেসিডেন্ট।

তবে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশ জারির ক্ষমতা, পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা এবং সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব বহাল থাকবে। ফলে কংগ্রেসে বিরোধী দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও ট্রাম্প প্রশাসন সব ক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়বে না। বরং যেসব ক্ষেত্রে কংগ্রেসের অনুমোদন অপরিহার্য, সেসব বিষয়ে বাধা বাড়বে; আর নির্বাহী ক্ষমতার আওতায় থাকা বিষয়ে ট্রাম্প নিজের অবস্থান ধরে রাখতে পারবেন।

রিপাবলিকান শিবিরে নেতৃত্বের প্রশ্ন

নির্বাচনের এই ফল রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক প্রভাবের ওপর ভর করেই এবারের নির্বাচনে অনেক রিপাবলিকান প্রার্থী প্রচার চালিয়েছেন। কিন্তু তার সমর্থন পাওয়া সত্ত্বেও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীর পরাজয় দলের ভেতরে নির্বাচনি কৌশল ও নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।

বিশেষ করে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকানদের মধ্যে নতুন নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ নেতারা তার রাজনৈতিক প্রভাব ধরে রাখতে চাইবেন। অন্যদিকে দলের এমন অংশও সক্রিয় হতে পারে, যারা মনে করে, ট্রাম্পের নীতি ও নির্বাচনি কৌশলের কারণে রিপাবলিকানরা গুরুত্বপূর্ণ আসন হারিয়েছে।

রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কংগ্রেসে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রিপাবলিকানদের সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নেতৃত্বও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতায় নামতে পারে। তবে ট্রাম্প এখনো দলটির সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় তার অবস্থান কতটা দুর্বল হবে, তা নির্ভর করবে আগামী দিনগুলোতে দলের ভেতরের প্রতিক্রিয়ার ওপর।

সামনে সমঝোতা, নাকি অচলাবস্থা?

নির্বাচনের ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার একটি নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। কংগ্রেসের উভয় কক্ষ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তগুলো এখন আগের মতো সহজে অনুমোদন পাবে না। তদন্ত ও শুনানির মাধ্যমে প্রশাসনের জবাবদিহি বাড়ানোর সুযোগও তৈরি হয়েছে।

তবে এই পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অচলাবস্থার ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ও কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ভিন্ন দলের হাতে থাকলে বড় নীতিগত সিদ্ধান্তে সমঝোতা কঠিন হয়ে পড়ে। বাজেট, ঋণসীমা, অভিবাসন ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে মতবিরোধ তীব্র হলে সরকারের স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হতে পারে।

সব মিলিয়ে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয় ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট পদ কেড়ে নিচ্ছে না, কিন্তু তার শাসন পরিচালনার স্বাধীনতা অনেকটাই সংকুচিত করছে। এখন প্রশ্ন হলো, ট্রাম্প বিরোধী দলের সঙ্গে সমঝোতার পথে হাঁটবেন, নাকি ভেটো ও নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে নিজের নীতিতে অটল থাকবেন। আর ডেমোক্র্যাটরাই বা কংগ্রেসের নতুন ক্ষমতা কতটা দায়িত্বশীলভাবে কাজে লাগাতে পারবেন। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির আগামী দুই বছরের গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে এই দুই পক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর। সূত্র: রয়টার্স, সিএনএন, হিন্দুস্তান টাইমস, এপি



সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট : 67        
  
  সর্বশেষ
হামের টিকা ক্রয়ে বিলম্ব, অনিয়ম ও ব্যর্থতার কারণ জানাতে কমিশন গঠন
Bank of England set to raise rate as inflation jumps
US `engages` with PNG probe into suspected artillery shell
Land dispute victim falsely portrayed as worker killed in police firing

Chief Advisor: Md. Tajul Islam,
Editor & Publisher Fatima Islam Tania and Printed from Bismillah Printing Press,
219, Fakirapul, Dhaka-1000.
Editorial Office: 219, Fakirapul (1st Floor), Dhaka-1000.
Phone: 02-41070996, Mobile: 01720090514, E-mail: muslimtimes19@gmail.com