হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে দুই লজ্জাবতী বানর অবমুক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সন্ধ্যায় বন বিভাগের উদ্যোগে বানর দুটিকে তাদের স্বাভাবিক আবাসস্থলে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে নিশ্চিত করেছেন সাতছড়ি বন্যপ্রাণী রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহেদি হাসান।
মেহেদি হাসান জানান, এর আগে জেলার মাধবপুর উপজেলার নোয়াহাটি এলাকা এবং চুনারুঘাট উপজেলার চান্দপুর এলাকা থেকে পৃথকভাবে লজ্জাবতী বানর দুটি উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের ধারণা, সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে পথ ভুলে প্রাণীগুলো লোকালয়ে চলে এসেছিল। খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বানর দুটি উদ্ধার করেন এবং প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ শেষে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের বনে অবমুক্ত করেন।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তোয়াজ্জল সোহেল বলেন, লজ্জাবতী বানর লরি সিডি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত একটি বিরল নিশাচর ও বৃক্ষবাসী স্তন্যপায়ী প্রাণী। নামের সঙ্গে ‘বানর’ শব্দটি যুক্ত থাকলেও এটি প্রকৃতপক্ষে বানর নয়, বরং আদি প্রাইমেট গোষ্ঠীর সদস্য এবং লেমুর জাতীয় প্রাণীর সঙ্গে এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তীব্র আলোর মুখোমুখি হলে প্রাণীটি তার দুই হাত দিয়ে চোখ ঢেকে ফেলে। এই আচরণ দেখে প্রাণীটিকে লাজুক মনে হওয়ায় এর নামকরণ করা হয়েছে ‘লজ্জাবতী বানর’। বন উজাড়, আবাসস্থল ধ্বংস এবং অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্যের কারণে এ বিরল প্রাণীটি বর্তমানে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই এদের আবাসস্থল সংরক্ষণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, সাতছড়ির মতো সংরক্ষিত বনাঞ্চলে উদ্ধার হওয়া বন্যপ্রাণী পুনরায় অবমুক্ত করা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্থানীয়দেরও বন্যপ্রাণী লোকালয়ে দেখা গেলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত বন বিভাগকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।