Thursday 1st of October 2026
|
|
|
Headlines : * আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা, নিহত অন্তত ২২   * যৌথ অভিযানের আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী   * ডেঙ্গু মোকাবেলায় ৫ লাখ টেস্ট কিট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, পর্যায়ক্রমে সারাদেশে পাঠানো হবে   * EU talks deportations as five nations seek migrant centre in Africa   * Blast at Syrian gas pipeline, power stations hit   * প্রত্যেক মানুষের বার্ধক্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন   * জিম্বাবুয়েতে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, সব আরোহীর মৃত্যু   * সময় এসে গেছে, হয়ত ইরানকে উড়িয়ে দিতে হবে: ট্রাম্প   * চাঁপাইনবাবগঞ্জে গরুবোঝাই ভটভটি উল্টে বাবা-ছেলেসহ নিহত ৩, আহত ৮   * Stocks temper gains as oil pares heavy losses, US data in focus  

   বাংলা সংবাদ
ইরাকে বিজয় উল্লাস, চার দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা
  Date : 30-09-2026

ইরাকে ২৩ বছর অবস্থানের পর দেশটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হলো।

২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন সামরিক অভিযান শুরুর পর এটি দেশটিতে তাদের দীর্ঘ সামরিক উপস্থিতির সমাপ্তি ঘটল।

দীর্ঘ এই সামরিক উপস্থিতির সমাপ্তি উপলক্ষে ইরাকজুড়ে বিশেষ উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে। গোটা জাতি আজ মেতেছে বিজয় উল্লাসে। জনগণকে এ বিজয় উদযাপনের জন্য চার দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। খবর রয়টার্স, আলজাজি ও মিডলইস্ট মনিটরের।

এটাকে ইরাকের ‘সার্বভৌমত্ব দিবস` আখ্যায়িত করে দেশটির সরকার বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) থেকে আগামী শনিবার পর্যন্ত সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে।

গত সপ্তাহে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা এবং প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষকে ‘ইরাকি সার্বভৌমত্ব দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচির বিষয়ে সরকারি মিডিয়া সেলের সঙ্গে সমন্বয় করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

ইরাকি গণমাধ্যমের তথ্যমতে, গৃহীত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরাকের শহীদ ও ভুক্তভোগীদের স্মরণে সরকারি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব দিবসের প্রতীকী ব্যাজ (যাতে ইরাকের মানচিত্র বা জাতীয় পতাকার রঙ রয়েছে) পরিধান করা।

ইরাকের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক আব্দুল আমির আল-শাম্মারি বলেছেন, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মার্কিন বাহিনী তাদের প্রত্যাহার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। তিনি জানান, ভিক্টোরিয়া ঘাঁটিটি ইতিমধ্যে মার্কিন বাহিনীমুক্ত হয়েছে এবং এটিকে কূটনৈতিক মিশনগুলোর কার্যক্রম পরিচালনার একটি কেন্দ্রে রূপান্তর করা হবে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি ছেড়েছেন সেখানে থাকা মার্কিন সেনাদের শেষ দলটি। এর মধ্য দিয়ে ইরাকে নতুন দিনের সূচনা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে দেশটির সরকার। যদিও সেনা প্রত্যাহার–পরবর্তী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেক ইরাকি।

মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে ইরাকিদের মধ্যে আনন্দ–উদ্বেগ উভয়ই আছে। এটি প্রতিবেশী দেশ ইরানের জন্য বড় সুযোগের দরজা খুলে দেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের অনেকে।

কারণ, ইরাকে ইরানপন্থি বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে। মার্কিন বাহিনীর অনুপস্থিতিতে এই গোষ্ঠীগুলো আরও সক্রিয় ও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে সুবিধা পেতে পারে তেহরান।

ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা ছিল বুধবার। এর এক দিন আগেই প্রত্যাহার শেষ হয়েছে বলে আলজাজিরাকে জানিয়েছেন ইরাকের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র।

তিনি বলেন, ইরাকে এখন আর মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর কোনো সেনা নেই। তাদের অনুপস্থিতিতে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে সক্ষম ইরাকি বাহিনী।

ইরাক থেকে সেনা পুরোপুরি সরিয়ে নিতে ২০২৪ সালে একটি সমঝোতা করেছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

তখন দেশটিতে আড়াই হাজার মার্কিন সেনা ছিলেন। গত বছরই তাদের বেশির ভাগকে সরিয়ে নেওয়া হয়। শুধু আধা স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি এলাকাগুলোয় কিছু সেনা ছিলেন। যদিও তাদের সংখ্যা কত, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানায়নি মার্কিন বাহিনী।

যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে হামলা চালায় ২০০৩ সালে। দেশটির প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করে তারা। ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে সাদ্দামের ফাঁসি দেওয়া হয়। ২০০৭ সালে ইরাকে মার্কিন সেনার সংখ্যা ১ লাখ ৭০ হাজার ছাড়িয়ে যায়।

এই সেনাদের একটি অংশ ২০১১ সালে ইরাক ছাড়ে। পরে ২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিরোধী অভিযানের জন্য ইরাকে আরও সেনা পাঠানো হয়।

ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে বাগদাদের জন্য নতুন একটি যুগ শুরু হলো। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে ইরাকের জন্য নতুন একটি দিনের সূচনা হলো।

দেশটি বিদেশি সব ধরনের সামরিক উপস্থিতি থেকে মুক্ত হবে। একই সঙ্গে ইরাকের পুরো ভূখণ্ডের ওপর জাতীয় সার্বভৌমত্ব পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হবে।

ইরাকে সক্রিয় ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক রেজিস্ট্যান্সের কমান্ডার আবু মোজতাবা আল-ইয়াসিরি মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘটনাকে ‘ঐতিহাসিক জয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ইয়াসিরি বলেন, ৩০ সেপ্টেম্বর ইরাকের ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায়ের অবসান হবে। ইরাকে দখলদারদের ব্যর্থতা উদ্‌যাপন করবে দেশটির মানুষ।

অঞ্চলের একটি আদিবাসী গোষ্ঠীর নেতা আবদুল রহমান আল-জোবাইর। তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, এই মুহূর্তে নিরাপত্তার দায়িত্ব পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেওয়ার জন্য ইরাক প্রস্তুত নয়।

ইরাকের জনগণ পূর্ণ সার্বভৌমত্ব চায়। কিন্তু আমার মনে হয়, মার্কিন বাহিনী এভাবে চলে গিয়ে যে শূন্যতা তৈরি করছে, সেটি সব ইরাকির জন্য সবচেয়ে বড় শঙ্কা।’

ইরাকে ইসলামিক রেজিস্ট্যান্সের মতো তেহরান–সমর্থিত বেশ কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে। চলমান ইরান যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে হামলা চালাতে ভূমিকা রাখছে এই গোষ্ঠীগুলো।

চলতি মাসেই ইরাক থেকে সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পাইপলাইনে হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া ইরান যুদ্ধের সময় যে ১৮ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে সাতজন ইরাকে ছিলেন।

ইরাকি নিরাপত্তা বিশ্লেষক জাসিম আল-বাহাদলি রয়টার্সকে বলেন, মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইরাক থেকে চলে যাওয়ায় কৌশলগতভাবে ইরানেরই লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

কারণ, এর ফলে ইরাক থেকে এমন একটি সামরিক উপস্থিতি সরে যাচ্ছে, যারা বহু বছর ধরে দেশটিতে তেহরানের প্রভাবের বিরুদ্ধে ভারসাম্য রক্ষা করে এসেছে।



সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট : 52        
  
  সর্বশেষ
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা, নিহত অন্তত ২২
যৌথ অভিযানের আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ডেঙ্গু মোকাবেলায় ৫ লাখ টেস্ট কিট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, পর্যায়ক্রমে সারাদেশে পাঠানো হবে
Five things to know about the Nobel Prize

Chief Advisor: Md. Tajul Islam,
Editor & Publisher Fatima Islam Tania and Printed from Bismillah Printing Press,
219, Fakirapul, Dhaka-1000.
Editorial Office: 219, Fakirapul (1st Floor), Dhaka-1000.
Phone: 02-41070996, Mobile: 01720090514, E-mail: muslimtimes19@gmail.com