ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন বামপন্থি ছাত্র ও যুব সংগঠনের কর্মীরা। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে রোববার (১১ অক্টোবর) শহরটিতে মিছিল করেছেন তারা।
এদিন দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকে চলমান আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে কলকাতার রাজপথে নামেন বামপন্থি ও অতি বামপন্থি সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। তাদের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকায় অনিয়ম করা হচ্ছে এবং বহু ভোটারের নাম বাদ পড়ছে।
রোববার শিয়ালদহ রেলস্টেশন চত্বরে জড়ো হন বামপন্থি ছাত্র ও যুব সংগঠনের কর্মীরা। পরে সেখান থেকে ধর্মতলার জেরিনা ক্রসিংয়ের উদ্দেশে মিছিল শুরু করেন তারা।
মিছিলে অংশ নেয় স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই), অল ইন্ডিয়া ডেমোক্রেটিক স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন (এআইডিএসও), ডেমোক্রেটিক ইয়ুথ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (ডিওয়াইএসএ), অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (এআইএসএ) এবং অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস ব্লক (এআইএসবি)সহ বিভিন্ন বাম সংগঠন।
মিছিল থেকে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং এসআইআর বাতিলের দাবিতে স্লোগান দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধেও স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয় কলকাতা পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করতে বাধা নেই। তবে এ জন্য প্রশাসনের অনুমতি নিতে হবে।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া বামপন্থি ছাত্রছাত্রীরা অভিযোগ করেন, দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশি দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে। তবে এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে আন্দোলন থামানো যাবে না বলে দাবি তাদের।
তারা আরও বলেন, দিল্লির আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আগেও কলকাতায় কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এবারও একই দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন তারা।
আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, বিজেপি সরকার যতবার আন্দোলন দমনের চেষ্টা করবে, ততবার তারা প্রতিবাদে রাস্তায় নামবেন।