যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, রাশিয়ার উচিত ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো এবং তিনি যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যা সম্ভব তা করবেন। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও জি-৭ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এ মন্তব্য করেন।
মঙ্গলবার ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁ শহরে ট্রাম্প বলেন, আমি যা পারি তাই করবো। তিনি জানান, যুদ্ধক্ষেত্রে দুই পক্ষেরই অনেক তরুণ প্রাণ হারাচ্ছে।
ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ার একটি চুক্তিতে আসা উচিত। আমি আটটি যুদ্ধের সমাধান করেছি। এটিই ছিল সেই যুদ্ধ, যেটি সমাধান করা সবচেয়ে সহজ হবে বলে আমি ভেবেছিলাম। তবে তিনি যে আটটি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছেন বলে দাবি করেছেন, তা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে।
বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জেলেনস্কি লিখেছেন, ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করা এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এগিয়ে নেওয়াই ছিল আলোচনার মূল বিষয়, যাতে রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধ করতে বাধ্য হয়। শান্তি প্রয়োজন।
তিনি আরও জানান, জি-৭ নেতাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র, সেগুলোর উৎপাদনের লাইসেন্স, শীতকালীন সহায়তা প্যাকেজ এবং রাশিয়ার ওপর আরও চাপ বৃদ্ধি।
জেলেনস্কি বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আলোচিত প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা। রাশিয়াকে বুঝতে হবে যে তাদের এই যুদ্ধ কখনোই স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে গ্রহণ করা হবে না। যারা আমাদের সহায়তা করছে, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ।
ইউরোপীয় কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, বৈঠকের পরিবেশ ছিল ইতিবাচক ও গঠনমূলক।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট এক্সে লিখেছেন, ইউক্রেনের পক্ষে পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। ২০২৬ সালের অবস্থা ২০২৫ সালের তুলনায় ভিন্ন। ইউক্রেন সাহসিকতার সঙ্গে সম্মুখসার ধরে রেখেছে। রাশিয়ার ক্লান্তি এখন স্পষ্ট। এটাই আমাদের সমর্থন আরও জোরদার করার সময়।”
এদিকে জি-৭ নেতারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া শান্তি চুক্তি নিয়েও আলোচনা করেন। বৈঠকে দ্রুত হরমুজ পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং এর বিকল্প জ্বালানি পরিবহন পথ চিহ্নিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সম্মেলনের আয়োজক ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ বলেন, এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হলো একটি দৃঢ়, কার্যকর ও চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন করা।
ম্যাক্রোঁ জানান, ফ্রান্স ও তাদের পশ্চিমা মিত্ররা দ্রুত পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত, যাতে প্রণালিটি শান্তিপূর্ণভাবে পুনরায় চালু করা যায়। ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুকূলে এলে ওই জলপথে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করতে একটি বিশেষ উদ্যোগের পক্ষে কাজ করছে।
ট্রাম্প এর আগে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি শুক্রবার সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত হবে। ওই দিন জেনেভায় একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সোমবার ডিজিটালভাবে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তির মাধ্যমে ৬০ দিনের একটি সময়সীমা কার্যকর হবে। এই সময়ে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কর্মসূচি এবং দেশটির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন জটিল বিষয় নিয়ে আলোচনা চলবে।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা আরও সহজ হবে বলে তিনি আশা করছেন।
সূত্র: আল-জাজিরা