Wednesday 4th of November 2026
|
|
|
Headlines : * Gazipur secured by 25 platoons of BGB   * Zelensky says dozens dead, missing in Russian attack days before US talks   * ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দিয়ে ইরানে বিশাল বিলবোর্ড   * সাতসকালে রাজধানীতে বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত ৪   * প্রতিনিধি পরিষদে বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা, সিনেটেও দাপট   * গ্রীষ্মের আগেই গ্রিডে যুক্ত হবে ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ   * Stolen watch worth $290,000 returned to Japan store with sorry note   * Short circuit ignites devastating fire in Sunamganj village   * গাজীপুরে ১১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন   * মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জনসমর্থনে ধস  

   বাংলা সংবাদ
ইউক্রেনের এক স্কুলে ভয়াবহ বোমা হামলা রাশিয়ার : ৩৩ জন নিহত, ৫০ জন নিখোঁজ
  Date : 03-11-2026

ইউক্রেনের দক্ষিণপূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ জাপোজ্জিয়া প্রদেশের কোমাইশুভাখা গ্রামে অবস্থিত একটি স্কুলভবনকে লক্ষ্য করে কমপক্ষে ৯টি বোমা নিক্ষেপ করেছে রুশ বাহিনী। এতে নিহত হয়েছেন অন্তত ৩৩ জন এবং এখনও নিখোঁজ আছেন কমপক্ষে ৫০ জন।


নিখোঁজরা সবাই স্কুলভবনের নিচে চাপা পড়েছেন। গত ২ নভেম্বর, সোমবার সকালে এই হামলা ঘটেছে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এই ঘটনাকে রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে প্রায় ৫ বছর ধরে চলামন যুদ্ধের ‘অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

স্কুল হলেও অবশ্য ভবনটিতে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম চলছিল না। স্থানীয় গভর্নর মাইখাইলো সেমিকিন জানিয়েছেন, ভবনটি স্থানীয় ইউক্রেনীয়দের আশ্রয়কেন্দ্র এবং মানবিক সহায়তা বিতরণের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

সেমিকিন জানান, ভবনটির আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিরা একটি সুদৃঢ় ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে (বেসমেন্ট) ছিলেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থায়নে নির্মিত হামলা সহ্য করার উপযোগী করেই তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু রুশ বাহিনীর নিক্ষিপ্ত বোমাগুলোর প্রচণ্ড আঘাতে কংক্রিটের কাঠামোটি ধসে পড়ে এবং সেখানে আগুন ধরে যায়।

যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে পাঠদান ও শিক্ষাকার্যক্রম অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে গত বছর এই আশ্রয়কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে যুদ্ধের আঁচ গ্রামটির কাছাকাছি চলে আসায় অনেক বেসামরিক নাগরিক এলাকা ছেড়ে চলে গিয়েছেন; ফলে বর্তমানে এটি আর স্কুল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে না। এর পরিবর্তে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এটিকে প্রশাসনিক কেন্দ্র এবং মানবিক সহায়তা বিতরণের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছিল।

ইউক্রেনে জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ মিশন মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হামলার সময় ওই এলাকার বেসামরিক নাগরিকরা মানবিক সহায়তা গ্রহণের জন্য সেখানে জড়ো হয়েছিলেন।

মিশনটির প্রধান ড্যানিয়েল বেল বলেন, “মানবিক সহায়তা বিতরণের সময় ও স্থান সম্পর্কে আগে থেকেই ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়েছিল। হয়তো রুশ বাহিনী জানত যে সেখানে মানবিক সহায়তা বিতরণ করা হচ্ছে, অথবা তারা যে গ্রামে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছিল, সেখানে কী ঘটছে—তা জানার মতো ন্যূনতম পদক্ষেপও তারা নেয়নি। উভয় ক্ষেত্রেই মনে হচ্ছে, এই হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের মৌলিক নীতিগুলোকে লঙ্ঘন করেছে।”

জেলেনস্কি জানান, এই হামলার পরপরই রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে শত শত ড্রোন এবং বহু শক্তিশালী ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে বড় ধরনের আক্রমণ চালায়। অথচ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা বন্ধের (এনার্জি সিজফায়ার) আহ্বান জানিয়েছিলেন।

ইউক্রেনের জ্বালানিমন্ত্রী ডেনিস শমিহাল জানিয়েছেন, খমেলনিৎস্কি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সাবস্টেশন লক্ষ্য করে তিনটি ড্রোন নিক্ষেপ করেছিল রুশ বাহিনী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে পোস্ট করা এক বার্তায় তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড পুরো ইউরোপের পারমাণবিক নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে এবং ইউক্রেন ইতোমধ্যে বিষয়টি জাতিসংঘের পারমাণু প্রকল্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইএইএ-কে অবহিত করেছে।

মঙ্গলবার সকালে এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, “এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ যে, এসব ঘটনা এমন এক দিনে ঘটছে যখন যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেস নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রুশরা হয়তো মনে করছে, তাদের দেওয়া এই সংকেত যুক্তরাষ্ট্রের নজরে আসবে না; কিন্তু এ ধরনের সন্ত্রাস অবশ্যই নজরে আনা উচিত এবং তা বন্ধ করা প্রয়োজন।”

জেলেনস্কি আরও বলেন, “ইউক্রেনকে তাদের আকাশসীমা রক্ষায় সহায়তা করতে হবে; অন্যথায় রাশিয়া কখনোই তাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থামাবে না। আন্তরিক ও নির্ভরযোগ্যভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সহায়তা করা জরুরি, আর আমেরিকা তা করতে পারে।”

রাশিয়ার এই সাম্প্রতিক হামলাগুলো এমন সময়ে ঘটল, যখন ট্রাম্প প্রশাসন আলোচনার জন্য নতুন করে উদ্যোগ নিচ্ছে। মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ সম্প্রতি নরওয়েতে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন এবং এরপর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেখা করতে সেন্ট পিটার্সবার্গে যান।

এর বাইরে, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প ইউক্রেনের অধিকৃত ওলেশকি শহরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে সহায়তা করেছেন, যার ফলে সপ্তাহান্তে শত শত বেসামরিক নাগরিককে নিরাপদে সরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দপ্তর ওভাল হাউস মঙ্গলবার জানিয়েছে যে, ফার্স্ট লেডি আগামী বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের নিমন্ত্রণ করেছেন। বিষয়টিকে তারা “মার্কিন ইতিহাসের এক অসাধারণ মুহূর্ত” হিসেবে অভিহিত করেছে।



সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট : 48        
  
  সর্বশেষ
Dhaka-Aricha highway blocked over workers` protest
Police maintain strict vigil in Uttara over garment worker unrest
Gazipur secured by 25 platoons of BGB
Court orders Meta to halt training on Brazilian media content

Chief Advisor: Md. Tajul Islam,
Editor & Publisher Fatima Islam Tania and Printed from Bismillah Printing Press,
219, Fakirapul, Dhaka-1000.
Editorial Office: 219, Fakirapul (1st Floor), Dhaka-1000.
Phone: 02-41070996, Mobile: 01720090514, E-mail: muslimtimes19@gmail.com